কবিতাঃ বিপুল চক্রবর্তী

 



জলে ভাসা কলকাতা, লকডাউন : একটি অনুভব

সামান্য বৃষ্টির জলে কলকাতার রাস্তা ভেসে গেলে

মানুষের দুঃখকষ্টে দিকে দিকে মিডিয়া তোলপাড়

লক্ষ্য করি, সে সময় কী ভাবে ভাসায় জলে ভেলা

পিঁপড়েরা, -ওকে জড়িয়ে ধরে ভাসে আর ভাসে

আরশোলারা পাখি হয়, নর্দমার ঢাকনা ঠেলেঠুলে  

উড়ে উড়ে আসে উঁচু অ্যাপার্টমেন্টের দিকে, চুপে

.

যেন কাকপক্ষী টের না-পায় যেন না-জানে মানুষ

 

.

কম করে একশো শামুক আর দশটা হেলে সাপ

একটাই বাঁশের খুটো আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রয়েছে

সাপ কি শামুক খাবে, শামুক কী খাবে হায় তবে 

আপাতত কোনও পক্ষ ভাবছে না এইসব নিয়ে

নিম্নে জল ঊর্ধ্বে জল সর্বনাশা জল ঠেলে ঠেলে 

এইখানে এই মাঠে কর্পোরেশনের নোংরা স্তুপে

.

আশ্রয় বাঁশের খুটো, লোকালয় থেকে কিছু দূরে

 

.

আমাদের দুর্দশার কথা আর ভাবি না আজকাল 

সকলে তো ঘরবন্দি, জলে ভেসে যাক না শহর

বিগবাসকেট আর অ্যামাজন থেকে চলে আসে

নিত্যপ্রয়োজনীয় যা-কিছু সবই, চাল ডাল তেল

চিনি নুন জেলি জ্যাম এমনকী মাছের চারা ডিম

আর আছে ঠিকেঝি, ওদের হেঁটে আসতেই হয়

.

ওদের শিশুরা পানকৌড়ির মতন জলে ভাসে

 

.

জানি জানি আছে ওই  বস্তিবাসী হাভাতের দল

জানি আছে জলে ডোবা সুন্দরবনের লোকজন

ইমিউনিটি ওদের এমনই, ওরা মরে না কিছুতে

সর্পের মতন বাঁচে গেঁড়ি-গুগলি শামুকের মতো

পিঁপড়ের মতন বাঁচে দলবদ্ধ আরশোলার মতো

বাঁচে আর যুদ্ধ করে বাঁচে আর যুদ্ধ করে বাঁচে

.

ওরাই বাংলা ওরা ভারতবর্ষ আর ধরিত্রী ওরাই


ছবিঃ প্রীতি মুখার্জী

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

যোগাযোগ ও লেখা পাঠানোর ঠিকানাঃ spartakasmagazine@gmail.com

  একটি লড়াকু পত্রিকা সম্পাদকমণ্ডলীঃ   অভিজিৎ   ঘোষ ,  অনির্বাণ সরকার ,  এয়োনিয়ান   অনির্বাণ ,  সুমিত পতি ,  মনোহর   হোসেন   মণ্ডল, চিরঞ্জিত ...