কবিতাঃ বিপ্লব চৌধুরী

 



নির্জন চায়ের দোকান

দোকানি  একাই ছিল। একটি টুলে বসে খইনি ডলছিল। বাঁশের বেঞ্চিতে বসলাম আমি। একটু ভিজে ছিল। কিছুক্ষণ আগের বৃষ্টিতে। দোকানি কাপড় দিয়ে মুছে দিল। আগুন জ্বলছিল। সসপ্যানে জল চাপিয়ে দিল। আবার খইনি ডলতে থাকল। মুখে ঢুকিয়ে দিল। জল ফুটে গেছে। চিনি দেবে কিনা জিজ্ঞেস করল। কাচের গেলাসে করে দিল। একটু ঠান্ডা হলে চুমুক দিলাম। দোকানটার পিছনে একটা বাঁশবাগান। হালকা- বিস্তর  পাখিদের ডাক শোনা যাচ্ছে। সামনে দিয়ে ইট-পাতা রাস্তা চলে গেছে হাটখোলার দিকে। তারপর ধু-ধু মাঠ। মাঠের শেষে গ্রাম, নাম জানলাম দুর্গাপুর। আর দোকানির নাম মহেশ্বর। আমার নাম সে জানতে চায়নি। টাকা নিয়েছে। ফেরত দিয়েছে। আবার গিয়ে বসেছে ওই টুলটার কাঠে। পরবর্তী খরিদ্দার যতক্ষণ না আসছে সে বসে থাকবে ওই নির্জন পৃথিবীতে। আমি উঠে আসার সময় হাসিমুখে বলে, আবার আসবেন। বাঁশবাগান থেকে পাখিদের ডাক শোনা যায়। দুর্গাপুর গ্রাম থেকে কাদের বাড়ির উনুনের ধোঁয়া উঠে মেঘে মিশে গেল। একটি গোরু ঘাস খায় মাঠে। আমি গন্তব্যের দিকে হেঁটে যেতে থাকি।


কুঁড়েঘরের কবিতা

মন কেন বারবার এত দুঃখ পায়? অথচ কখনো সুখ চায়নি তো সে। চেয়েছিল শান্তি শাক, সাদা ভাত আর সামান্য কিছু মায়া মমতা। এইসব দু-হাতে নিয়ে অক্ষরের কুঁড়েঘরে কিছুদিন কৃতজ্ঞ থেকে তারপর মরে যেতে চেয়েছিল, যেরকম সকলেই যায়। একটা গাছ কীভাবে বেড়ে ওঠে, কীরকম করে গান গায় একজন পাখি, ইত্যাদি বিষয়ে তার কিছু কিছু কৌতূহল ছিল। সূর্য যখন অস্তগামী, তার দু-চোখ ভালোবাসত দেখতে সেই আকাশ। একটা চায়ের দোকানের বাঁশের বেঞ্চিতে বসে সে প্রদক্ষিণ করল পৃথিবীকে। কিন্তু এখনই সে তার কাটা হাত আর অন্ধ চোখ নিয়ে মরে যায় না কেন? মন তার বারবার কেন এত দুঃখ পেয়েছিল!

ছবি গুগল থেকে সংগৃহীত

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

যোগাযোগ ও লেখা পাঠানোর ঠিকানাঃ spartakasmagazine@gmail.com

  একটি লড়াকু পত্রিকা সম্পাদকমণ্ডলীঃ   অভিজিৎ   ঘোষ ,  অনির্বাণ সরকার ,  এয়োনিয়ান   অনির্বাণ ,  সুমিত পতি ,  মনোহর   হোসেন   মণ্ডল, চিরঞ্জিত ...