নির্জন চায়ের দোকান
দোকানি একাই ছিল। একটি টুলে বসে খইনি ডলছিল। বাঁশের বেঞ্চিতে বসলাম আমি। একটু ভিজে ছিল। কিছুক্ষণ আগের বৃষ্টিতে। দোকানি কাপড় দিয়ে মুছে দিল। আগুন জ্বলছিল। সসপ্যানে জল চাপিয়ে দিল। আবার খইনি ডলতে থাকল। মুখে ঢুকিয়ে দিল। জল ফুটে গেছে। চিনি দেবে কিনা জিজ্ঞেস করল। কাচের গেলাসে করে দিল। একটু ঠান্ডা হলে চুমুক দিলাম। দোকানটার পিছনে একটা বাঁশবাগান। হালকা- বিস্তর পাখিদের ডাক শোনা যাচ্ছে। সামনে দিয়ে ইট-পাতা রাস্তা চলে গেছে হাটখোলার দিকে। তারপর ধু-ধু মাঠ। মাঠের শেষে গ্রাম, নাম জানলাম দুর্গাপুর। আর দোকানির নাম মহেশ্বর। আমার নাম সে জানতে চায়নি। টাকা নিয়েছে। ফেরত দিয়েছে। আবার গিয়ে বসেছে ওই টুলটার কাঠে। পরবর্তী খরিদ্দার যতক্ষণ না আসছে সে বসে থাকবে ওই নির্জন পৃথিবীতে। আমি উঠে আসার সময় হাসিমুখে বলে, আবার আসবেন। বাঁশবাগান থেকে পাখিদের ডাক শোনা যায়। দুর্গাপুর গ্রাম থেকে কাদের বাড়ির উনুনের ধোঁয়া উঠে মেঘে মিশে গেল। একটি গোরু ঘাস খায় মাঠে। আমি গন্তব্যের দিকে হেঁটে যেতে থাকি।
কুঁড়েঘরের কবিতা
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন