কবিতাঃ বিভাস সাহা

 



Kill Bill

(বাংলায় অর্থ বদলে যাবে তাই ইংরাজি নাম দিলাম)

 

শুঁড়িখানায় জলপান রমণীর ব্যবস্থা আছে

তীর্থযাত্রীদের জন্যে বিশেষ ছাড়

কথাটা চাউড় হতেই,  ধূসর প্রান্তরে এক বিষণ্ণ মরুদ্যান জেগে উঠল

আর দখিনা বাতাসে ভেসে এল বাঘিনি বসন্তের গন্ধ

 

একই টেবিলে এখন বিপ্লবী বেইমান,

জ্যাক ড্যানিয়েল একটু জাঁকিয়ে বসলেই

টস করে ঠিক করা হবে

কার জন্যে শহীদ স্তম্ভ, আর কে পাবে দেশিকোত্তম

 

তাদের পাশেই জীবনের শেষ বিয়ার বোতলটি

হাতে নিয়ে বসে আছে এক ভাড়াটে মানব বোমা

শুধু একটি ফোনের অপেক্ষায়;

গত জন্মে সে জাফনায় সুনামি  দেখেছিল,

সাদা বালির মতই তার চোখের তারা

 

 

ঠিক যেমনটি নাবালক কবির,

যে মৃগনাভির গন্ধে পাঁচটি তেপান্তর পার হয়ে

এই জীর্ণ শুঁড়িখানায় এসে

বেলি ড্যান্সারের পায়ের কাছে বসে আছে

দিনে নর্তকী রাতে গৃহবধূ --

বেলেঘাটার মেয়েটি নেফারতিতির চেয়েও সুন্দরী

তার নকল হিরেতে কত শরতের শিশিরবিন্দু

ঝিকমিকি সোনার মেখলায় শৈশবের সূর্যোদয়

আর এক কালনাগিনির করুণ প্রার্থনা

          আমার শরীরে এত বিষ কেন,

          আমি তো ছোবল মেরে শুধু অমৃতই দিতে চাই

 

 

পাশের ঘরে বেশ্যারা বুফে সাজিয়েছে

যত খুশি খাও, টিপস্ আবশ্যক নয়

আমলারা লাইন ভেঙ্গে ঢুকে পড়েছে যথারীতি,

যুদ্ধক্লান্ত কিছু গেরস্ত সৈনিক প্লাস্টিকের ফুল ভেবে উর্দিতে গুঁজে নিল

সদ্যফোটা কুমারীর যৌবনপলাশ

 

এসব আসলে শুঁড়িখানার মালিকেরই ষড়যন্ত্র --

একদা এক নির্জন অরণ্যকেবিনে বসে  সে ভবিষ্যৎ লিখে রেখেছিল,

সোনার জলে বাঁধানো ডায়েরীর খাতায়,

একদম চিত্রনাট্যের মত দিন ক্ষণ সাজিয়ে

 

মদ বমি পেচ্ছাপের এই ম্যাটিনী শো

বেলা গড়ালেই কাঁদুনে সান্ধ্য সিরিয়াল পার করে

মাঝরাতে রক্তমোচ্ছবে পরিণত হবে

 

আপাতত: তার মোবাইলের ছোট্ট স্ক্রীনে

কিল বিল-এর দুই নিষ্পাপ নায়িকা

দীর্ঘ সামুরাই সোর্ড হাতে মুখোমুখি --

বরফ নতজানু হয়ে আছে শুভ্র সম্মানের মহিমায়

শুধু অকালবসন্তের মত ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরে পড়বে

একবার, … একবারই


ছবিঃ তিয়াসা ভৌমিক

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

যোগাযোগ ও লেখা পাঠানোর ঠিকানাঃ spartakasmagazine@gmail.com

  একটি লড়াকু পত্রিকা সম্পাদকমণ্ডলীঃ   অভিজিৎ   ঘোষ ,  অনির্বাণ সরকার ,  এয়োনিয়ান   অনির্বাণ ,  সুমিত পতি ,  মনোহর   হোসেন   মণ্ডল, চিরঞ্জিত ...