যন্ত্রনার প্রহর
-আমায় একটা গড়ে দিবি?
-দেবো।
আজ হাঁটতে বেরিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ করে মনে পড়ে গেল ছেলেবেলার কথা। বড় সুখের সময় ছিল সেই সময়। সুখ যেন হঠাৎ করে উবে গেল জীবন থেকে। বড্ড অসহায় লাগে নিজেকে এই সময়ে দাঁড়িয়ে। বিশেষত এইবারে বরিশাল থেকে এসে একটু বেশিই অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি। এই অসহায়তা জীবিকাহীনতার জন্য। তবে এখনকার এই হাঁটা শুধুমাত্র অভ্যাসের হাঁটা নয়,বরং জীবিকার তাগিদে হাঁটা। এবারে বরিশাল ছেড়ে আসার ইচ্ছে ছিল না, আসতে বাধ্য হয়েছেন অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য। তিনি একা নন পিলপিল করে ওপার বাংলা থেকে শরনার্থীরা এসে ঢুকছে কলকাতায়। বাসস্থান এবং আহারের জন্য তীব্রতর সংগ্রামে লিপ্ত হতে হচ্ছে মানুষকে। মানুষের 'গভীর অসুখ এখন'। শান্তিপ্রিয় জীবনানন্দ অশান্তির আশঙ্কায় বরিশালের বাস্তু-ভিটে চিরকালের জন্য ছেড়ে এসে উঠেছেন কলকাতার ল্যান্সডাউনের একটা সস্তা ভাড়ার বাড়িতে। প্রথম দিন ঐ ভাড়া বাড়িটায় ঢুকতে গিয়ে মনে পড়ে ছিল বগুড়া মোড়ের বিশাল জায়গা জুড়ে গড়ে ওঠা তাঁর পৈতৃক বাড়িটাকে। দাদু সর্বানন্দ ছিলেন শৌখিন লোক। বরিশালের ব্রাহ্ম সমাজের মুখ। তিনি কি কখনো স্বপ্নেও ভেবেছিলেন তাঁর নাতিকে এভাবে এতবড় বাস্তুভিটে ছেড়ে পালতে হবে। মন খারাপ হয়ে যায় জীবনানন্দের। মন খারাপ শুধু ছেড়ে আসা বাস্তু ভিটের জন্য নয়, রোজগারের বন্দোবস্ত করতে না পারার জন্যও। তাঁর এক্ষুনি একটা চাকরি দরকার। সংসারের খরচ তো কম নয়। পেট চালানো ছাড়াও কন্যা মঞ্জুশ্রী এবং পুত্র সমরানন্দের প্রতিপালনের খরচও রয়েছে। সর্বোপরি লাবণ্যর এই অর্থাভাবে পরিপূর্ণ সংসার পছন্দ নয়। জীবনানন্দ ও মানেন সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে গেলে অর্থের দরকার। তা পাওয়া যেতে পারে একমাত্র ভালো চাকরি পেলে, কিন্তু এই দাঙ্গার শহরে চাকরি জোটাবেন কোত্থেকে, তা ভেবে পান না জীবনানন্দ। তবে আপাতত কিছু অর্থের সংস্থান হলেও কিছুটা সুরাহা হতো, কিন্তু তাই বা পাবেন কোথায়?
এই শহরে পরিচিতির অভাব নেই তাঁর। সর্বজনীন কবি তিনি। তাছাড়াও অধ্যাপনা কম দিন করেননি এই শহরে। সেই সুবাদে এই শহরে ছড়িয়ে রয়েছে তাঁর অসংখ্য ছাত্র, অনুরাগী পাঠক আর হ্যাঁ বেশ কিছু সমালোচক। তাদের কারও কাছে গিয়ে কি এই দুঃসময়ে সাহায্য চাওয়া যায়? ভাবতে ভাবতে জীবনানন্দের মনে পড়ে পূর্বাশার সম্পাদক সঞ্জয় ভট্টাচার্যের কথা। পায়ে হেঁটে পৌঁছান তাঁর দপ্তরে। দপ্তরে দাঁড়াতেই এগিয়ে আসে একটা পাতলা ফিনফিনে চেহারার ছেলে। কবি জীবনানন্দ কে চেনে সে। চেয়ার এগিয়ে দিয়ে জিজ্ঞাসা করে, 'কিছু বলছিলেন?'
-হ্যাঁ। সঞ্জয় বাবুর সঙ্গে দরকার ছিল একটু
-কিন্তু তিনি তো নেই
-ও। নেই শুনে কিছুক্ষণ হতোদ্যম হয়ে বসে থাকেন জীবনানন্দ। তারপর জিজ্ঞাসা করেন,'কখন আসবেন কিছু বলে গেছেন?'
-আজ আর কাল দুদিন তিনি আসবেন না বলে গেছেন।
-ও। মুখ থেকে আর কথা সরে না তাঁর। অভিজ্ঞতা থেকে ছেলেটি জানে এই কবি খুব ধীরস্থির এবং অন্তর্মুখী। তাই ছেলেটি বলে, 'কি দরকার যদি আমাকে বলে যান,আমি দাদা এলে বলে দেবো।' উত্তর না দিয়ে কিছুক্ষণ ভাবেন জীবনানন্দ, না, তিনি মরে গেলেও এই ছেলেটিকে টাকার কথা বলতে পারবেন না। তাই এক টুকরো কাগজ চেয়ে নেন। বলেন, 'একটা চিঠি লিখে যাচ্ছি, উনি এলে দিয়ে দিও।'
কাগজ পেয়ে লিখতে শুরু করেন,মাননীয় সম্পাদক, উঁহু সম্বোধনটা ঠিক হচ্ছে না। কেটে ফেলেন লেখাটা,তারপর লেখেন দাদা, না এবারও কেটে ফেলেন। এরপর সম্বোধনহীন ভাবে শুরু করেন চিঠিটা, 'খুব অসুবিধায় পড়েছি, কিছু টাকার দরকার, তাই বিরক্ত করলাম আপনাকে। অনুগ্রহ করে ব্যাবস্থা করলে উপকৃত হবো।'
পূর্বাশার দপ্তর থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নামেন জীবনানন্দ। তখন সন্ধ্যা নামছে। মলিন হচ্ছে হেমন্তের শহর। কোথায় যাবেন সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে জীবনানন্দ এসে দাঁড়ান ট্রাম লাইনের পাশে। তাকিয়ে দেখেন ট্রাম লাইনের চারপাশে গজিয়ে ওঠা সবুজ ঘাস। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন ঐ দিকে। মনে একটা অদ্ভুত আশার সঞ্চার হয়। পরক্ষণেই স্তিমিত হয়ে পড়েন, লাবণ্যর মুখটা মনে পড়তেই। কবিতা লেখা পছন্দ নয় ওর। বারবার বলে, 'কবিতা লেখে আলসেরা।' বলে,'কবিতা লিখে পেট চলে? আগে পেটের সংস্থান করো, নয়তো তোমার ঐ কবিতার কোন মূল্য নেই।' লাবণ্যর কথায় মাঝে মাঝে নিরাশ হয়ে পড়েন জীবনানন্দ। ভাবেন,বিয়ে করে কি ভুল করেছেন? না কি ভুলজনকে বিয়ে করেছেন? তবে কি ঐ মেয়েটিকে বিয়ে করলে সুখী হতেন? বোন সুচরিতার খেলার সাথী ছিল শোভনা। ওকে দেখলে যে কেন মনে হতো কে জানে ওনার সব সুখ সঞ্চিত আছে মেয়েটির কাছে। কিংবা হয়তো এটা তাঁর মনের ভুল। হয়তো এটাই সত্যি এই অসুখের পৃথিবীতে কেউই সুখী নয়। লাবণ্যপ্রভাকে বিয়ে করার পরও তো ভাবেননি এতটা অসুখী হবেন তিনি। ওরই বা কি দোষ? দুটো শিশু সন্তান সহ সংসার। অর্থের যোগান নেই। সব ক্ষেত্রে চাহিদার সঙ্গে সমঝোতা করতে কোন ঘরণী চায়? এই জায়গাটাতে খামতি থেকে গেছে জীবনানন্দের। মাঝে একবার ভেবেছিলেন কবিতা লেখা ছেড়ে উপন্যাস লিখবেন।শুনেছেন উপন্যাস লিখলে রোজগার বেশি হয়। সেই মতো এক সাহিত্য অনুষ্ঠানে প্রতিভা বসুকে পেয়ে মৃদুস্বরে বলেন,'একটা কথা ছিল আপনার সঙ্গে। '
-হ্যাঁ বলুন না
-বলছি উপন্যাস লিখে কি রকম রোজগার হয় বলুন তো? শুনে অবাক দৃষ্টিতে জীবনানন্দের দিকে তাকিয়ে থাকেন প্রতিভা বসু। উত্তর না পেয়ে জীবনানন্দ পুনরায় বলেন,'আপনি তো উপন্যাস লেখেন,তাই ভাবছিলাম, যদি পয়সা কিছু বেশি পাওয়া যায় তাহলে আমিও তাই লিখবো।'
-তা বেশ তো লিখুন না।
উৎসাহ পান জীবনানন্দ। ঘরে এসে আনন্দের সঙ্গে বলেন,'আমি রোজগারের নতুন দিশা পেয়েছি।'
-নতুন কোন ভালো চাকরি পেয়েছো বুঝি? জিজ্ঞাসা করেন কৌতূহলী লাবণ্য।
-না, তা পাই নি
-তবে
-ভাবছি কবিতা লেখা ছেড়ে উপন্যাস লিখবো এবার।
আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন লাবণ্য। লাবণ্যপ্রভার আচরণ নিরুৎসাহিত করে জীবনানন্দকে। ভাবেন আর লিখবেন না। কিন্তু না, না লিখে থাকতে পারেন না। ছেলে মেয়েরা ঘুমিয়ে পড়লে লেখার খাতা টেনে নিয়ে লিখতে বসেন আবার। তবে কবিতা নয়, এবার উপন্যাস। লিখতে লিখতে লেখার মধ্যে ঢুকে যান। এটা তাঁর বরাবরের অভ্যাস। এক জায়গায় এসে থমকে যান। ভাবেন একি উপন্যাসের চরিত্র মাল্যবানের মধ্যে যে তিনি নিজেই উঠে আসছেন।একটু অন্য রকম ভাবলে হয় না। তবে অন্য রকম আর ভাবতে পারেন না। লাবণ্য এসে ফালা ফালা করে দেয় তাঁর সমস্ত রকম ভাবনা। চিৎকার করে বলতে থাকে,'লেখা নিয়ে পড়ে থাকলে হবে? টাকার যোগাড় করতেন হবে না? সংসার করতে গেলে দায়িত্বশীল হতে হয়। তোমার মতো সংসার উদাসীন লোককে বিয়ে করে আমার জীবনটা শেষ হয়ে গেল। ' ক্ষোভে চোখে জল এসে যায় লাবণ্যর। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে। কাঠ হয়ে যান জীবনানন্দ। দাঁড়ান গিয়ে জানালার ধারে। আকাশ ভর্তি তারা। তারাদের দল মনে পড়ায় বড় মামাকে। ওঁদের ছেলেবেলায় উঠোনে বসে তারা চেনাতেন বড় মামা। সুখ স্মৃতি মন খারাপ করে দেয়। আকাশ থেকে চোখ নামান। বাইরের পৃথিবী ভেসে আছে জ্যোৎস্নায়। জ্যোৎস্নায় ভিজে ছিঁড়ে ছিঁড়ে ঘাস খাচ্ছে মন্তাজ মিঞার ঘোড়াগুলো। বড় মায়াবী মনে হয় এই পৃথিবী। আবার প্রতিজ্ঞা করেন,'আর লিখবো না।' কিন্তু কি করবেন ? ভাবতে ভাবতে মাথায় এসে যায় আইডিয়া টা, 'জীবন বিমার এজেন্ট হলে কেমন হয়, ওতে তো কমিশন ভালোই পাওয়া যায়। 'ভাবেন যাই গিয়ে বলি লাবণ্যকে, শুনে হয়তো খুশি হবে। শোয়ার ঘরে গিয়ে দেখেন কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়েছে লাবণ্যপ্রভা। ঘুমের ঘোরে তলিয়ে আছে দুই সন্তান ও। গিয়ে দাঁড়ান খাটের পাশে। হাঁটু মুড়ে বসে, পরম স্নেহে হাত বুলিয়ে দেন তিন জনের মাথাতেই। শোবার ঘর থেকে বেরিয়ে এসে দাঁড়ান পূর্ণিমায় ভেসে যাওয়া ঘরের বারান্দায়। বসে পড়েন বারান্দার কোণায় রাখা কাঠের চেয়ারটায়। সুখের পরিবেশে মনের দুঃখ গলতে শুরু করে জীবনানন্দের। জানেন চেষ্টা করলেও লেখা ছাড়তে পারবেন না, লেখা যে তাঁর রক্তে। মা নিজের লেখা ছড়া শুনিয়ে ঘুম পাড়াতেন ছেলেবেলায়। মা কুসুমকুমারী বলতেন, 'প্রত্যহ ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো লিখে রেখো,পরে সেই পাতা উল্টালে মনে প্রসন্নতা আসে।' সেই সময়ে বাবা সত্যানন্দ এসে দাঁড়াতেন কাছে। বক্তা,চিন্তক,প্রাবন্ধিক এবং শিক্ষক হিসেবে নাম ডাক ছিল তাঁর। সত্যানন্দ বলতেন,'দেখো তোমার মিলু একদিন অনেক বড়ো কবি হবে।'
না বাবা তোমার কথা মিথ্যা হয় নি। তোমাদের মিলু আজ কবি হয়েছে। তবে কবিতা আমাকে না ছাড়লেও, মনে হয় এবার কবিতাকে আমাকে ছেড়ে দিতে হবে আমায়। ভাবতে ভাবতে মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে জীবনানন্দের।
এখন আর তার ঘর ভালো লাগে না। দাম্পত্য কলহ বিষাক্ত করে তুলেছে ঘরের পরিবেশ। প্রকাশকদের ভালো লাগে না। তারা সবাই লেখা চায়, টাকা চাইলে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এই জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছেন তিনি। মাঝে মাঝে আত্মহত্যার চিন্তা আচ্ছন্ন করে ফেলে তাকে। তবে মরে যাবেন ভাবলে ধক করে ওঠে বুকটা। মঞ্জুশ্রী রয়েছে, সমরানন্দ রয়েছে, উনি মারা গেলে ওদের কি হবে? না না ওদের এই অবস্থায় রেখে তিনি মরতে পারবেন না। বরং ওদের জন্য টাকার সংস্থান করতে হবে, রোজগারের ব্যবস্থা করতে হবে।
সেদিন ঐ রকম হাঁটতে হাঁটতে থমকে দাঁড়ান চেনা গলার ডাক শুনে,'স্যার।' ঘুরে দেখেন সামনে দাঁড়িয়ে প্রিয় ছাত্র অরবিন্দ গুহ।
-অরবিন্দ তুমি এখানে?
-হ্যাঁ স্যার। এদিকে একটু কাজ ছিল।
-আপনি?
-একটু হাঁটতে বেরিয়েছিলাম
-আপনাকে এতো বিবর্ণ দেখাচ্ছে কেন স্যার? শরীর ভালো আছে তো?
-হ্যাঁ ভালোই আছি। কিছুক্ষণ জীবনানন্দের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন অরবিন্দ। তারপর বলেন,'স্যার, ছাত্র তো পুত্রের মতো। বলুন না কি হয়েছে? মনে হচ্ছে আপনি কিছু গোপন করছেন।'
এবার ধীরে ধীরে বলেন জীবনানন্দ, 'আসলে কি জান অরবিন্দ, আমার একটা স্থায়ী রোজগার দরকার কিন্তু তা জোটাতে পারছি না। '
-কেন স্যার? আপনি তো চাইলেই কোন কলেজে পড়াতে ঢুকতে পারেন।
-হ্যাঁ ঢুকেছিলাম দু’একটা কলেজে। তবে সেগুলোতে যেতে আসতেই সব সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। ক্লান্ত লাগে। কবিতা লেখার সময় পাচ্ছিলাম না। শুনে কি বলবেন বুঝতে পারছিলেন না অরবিন্দ। জীবনানন্দই বলেন,'আচ্ছা অরবিন্দ সিনেমার গান লিখলে কেমন হয়?'
-ভালো হবে স্যার
-কিন্তু গান লিখে কার কাছে নিয়ে যাওয়া যায় বলোতো?
-প্রেমেন মিত্রের কাছে যেতে পারেন
-কিন্তু উনি তো নিজেই গান লেখেন
-তাহলে শৈলজানন্দের কাছে যান না
-উঁহু, ওনার সিনেমার উপযোগী গান আমি লিখতে পারবো না।
-বেশ আমি একটু ভাবি
-বেশ। বলে উদাসীন জীবনানন্দ আবার হাঁটতে শুরু করেন।
ঘরে ঢুকতেই হামলে পড়ে লাবণ্যপ্রভা, 'বলি সারাদিন ঢন ঢন করে ঘুরছিলে কোথায়?'
-না না ঘুরিনি, আজ রেডিওতে একটা অনুষ্ঠান ছিল। জানো মহাজিঞ্জাসা আবৃতি করেছি। শুনে সবাই খুব প্রশংসা করছিল জানো। খুব উৎসাহ ভরে কথাগুলো বলেন জীবনানন্দ। ভাবেন খুশি হবে লাবণ্য। কিন্তু না, তিরস্কার করে ওঠে লাবণ্য, 'এতো বলার পরেও কোন হেলদেল নেই তোমার। তুমি ব্যস্ত নিজের জগৎ নিয়ে। ছি ছি ছি।
মন খারাপ করে জীবনানন্দ গিয়ে বসেন তাঁর লেখার খাতা রাখার ট্রাঙ্কটার কাছে। মনে মনে বলেন, আর হয়তো কোনদিন খোলাই হবে না। চাবিটা হাতে নিয়ে মেয়েকে ডাকেন,'মঞ্জুশ্রী'
-কিছু বলছো বাবা
-হ্যাঁ, এখানে আয় মা। তারপর ট্যাঙ্কের চাবিটা ওর হাতে দিয়ে বলেন, 'আজ থেকে এই ট্রাঙ্কের মালিক তুই, নে ধর।'
বাবার আচরণে অবাক হয়ে যায় মঞ্জুশ্রী।
পরদিন সকালে বেরোন না তিনি। মঞ্জুশ্রী আর সমরানন্দকে কাছে ডেকে বসান, আদর করেন। বেরোন একটু বেলার দিকে। পায়ে হেঁটে এদিক ওদিক ঘুরে এসে দাঁড়ান রাসবিহারী এভিনিউর ট্রাম লাইনটার কাছে। আজ জায়গাটা বড্ড টানছে ওঁকে। এবার বরিশাল এসে প্রথমে ঘর ভাড়া নিয়ে ছিলেন এর কাছেই। গিয়ে দাঁড়ান ট্রাম লাইনের মাঝে গজিয়ে ওঠা সবুজ ঘাসের উপর দেখতে পান ধবল বক, শুনতে পান বসন্তের কোকিলের ডাক। তৈরী হয় এক স্বপ্নময় আচ্ছন্নতা।
আচ্ছন্নতা ভাঙতে পারে না ট্রামের হুইশেল, জণগণের চিৎকার চেঁচামেচি। জীবনানন্দ অনুভব করেন একটা যন্ত্রণা। তবে তা পার্থিব যন্ত্রনার চেয়ে কম বলে মনে হয় তাঁর।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন