পাথরের চোখে
চাঁদ, এতটা মাটির কাছে নেমে এসেছ
সাদা ঠান্ডা চাঁদ
আমাদের বন্ধু স্বজন কেমন ঘুমিয়ে আছে
দেখতে এলে
অতিমারির পৃথিবীর চাঁদ---
ওরা শুয়ে রয়েছে তোমার বুকের মতো
হাওয়াশূন্য ফুসফুস নিয়ে।
বাতাসে মেঘের সাঁতার বৃথাই ফেনিয়ে তুলছে আকাশকে,
বায়ুমণ্ডলে দেবদূতের মিথ্যে হাসি---
পাথরের চোখে, চাঁদ
অলৌকিক দেখাচ্ছে ঘরবাড়ি দরদালান
অবাস্তব ঠেকছে।
আমার হৃদয় এবং
আমার হৃদয় উলটচণ্ডাল ফুল।
আমার সমস্ত কথা পাথরকুচির পুনর্জন্ম।
আমার মন বসন্তকালে তোমার পিঙ্ক পোশাকের স্বচ্ছ সুতো।
আমার স্বপ্ন পাকা গম খেতের মধ্যিখান দিয়ে রাস্তা মিশে গেছে সূর্যাস্তে।
আমার দুঃখগুলো চন্দ্রাহত জানালা।
আমার স্মৃতি একলা একটি কিশোর সাইকেলের বেল বাজাতে বাজাতে চলে যাচ্ছে।
আমার প্রেম লাল রঙের পরিত্যক্ত ডাকবাক্স।
আমার মৃত্যু প্রতিদিন আয়নার ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে ভোররাতে গোলাপ
বাগানের পথে হেঁটে চলে যায়।
চৌকাঠ পুড়ে যাচ্ছে
অকালমৃতার পায়ের কাছে বসে আছে
তুলোর বেড়াল।
এইমাত্র কথা বলছিল, তার
ঠোঁটের পাশে লিলি ফুলের শ্রান্তিতে
ফুটে ছিল কয়েক বিন্দু ঘাম, চোখের পাতায়
জানালা পেরিয়ে তাকিয়ে থাকা
দূরের দৃষ্টি এখনও তাকিয়ে রয়েছে, নীলসাদায়
নিটোল বিশ্বাস।
ভাবি, ভাবতে পারি না। ঠান্ডায় রোদে
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন